নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে উত্তেজনা

ইসলামী ব্যাংক থেকে পাঁচ দিনে ৩৫০০ কোটি টাকা তুলে নিল গ্রাহকরা

ইসলামী ব্যাংক থেকে পাঁচ দিনে ৩৫০০ কোটি টাকা তুলে নিল গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চেয়ারম্যান নিয়োগ ঘিরে চলমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আস্থার সংকটেই এই নগদ উত্তোলনের চাপ বেড়েছে।


ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, ১ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত চার কার্যদিবসে প্রায় ২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এর পর ৭ জুন একদিনেই আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেন গ্রাহকরা। সব মিলিয়ে পাঁচ দিনে উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।


গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলম নিয়োগ পান। এরপর থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতির কারণে তার প্রথম বোর্ড সভাও অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন।


ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন ঠিকই, তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সব কার্যক্রম কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নগদ অর্থ তুলছেন নাকি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।


২০২৪ সালের আগস্টে বোর্ড পুনর্গঠনের পর ইসলামী ব্যাংকের আমানত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ব্যাংকটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


এদিকে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবি করছেন। ব্যাংকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে।