ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪,২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা, সিআরআর নেগেটিভে

ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪,২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা, সিআরআর নেগেটিভে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের চাপে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে নেগেটিভ অবস্থায় পৌঁছেছে। গত সাত দিনে ব্যাংকটি থেকে ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। এতে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।


ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে একাংশ গ্রাহকের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার পর সারা দেশে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাধ্যতামূলক নগদ জমা বা সিআরআর নির্ধারিত মাত্রার নিচে নেমে গেছে।


সিআরআর বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও হলো ব্যাংকের মোট আমানতের একটি অংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে দেশে ব্যাংকগুলোকে গড়ে ৪ শতাংশ সিআরআর সংরক্ষণ করতে হয়।


ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ব্যাংকটির সিআরআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। তবে গত এক সপ্তাহে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের চাপে তা নেগেটিভে নেমে গেছে।


তিনি বলেন, ব্যাংকটির সিআরআরের প্রয়োজনীয়তা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে বর্তমানে সংরক্ষিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ব্যাংকটির চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) এখনো ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।


সিআরআর ঘাটতির কারণে ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর একই দিন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে আন্দোলনের মুখে ডেপুটি গভর্নরের পদ ছাড়েন তিনি।


খুরশীদ আলমের নিয়োগের প্রতিবাদে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর আন্দোলন টানা নবম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রাখেন।