তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ২,৪৪১টি

তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ২,৪৪১টি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের আমানতের হিসাব ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশে এক কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৪১টি কোটি টাকার হিসাব।


স্বাধীনতার পর শুরুর সময় পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। ১৯৭২ সালে দেশে কোটি টাকার আমানত হিসাব ছিল মাত্র ৫টি। সেই হিসাবে গত ৫৪ বছরে এ ধরনের হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮০টিতে।


বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৫০টি।


একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট আমানত ছিল ২১ লাখ ৫৩৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকায়।


কোটি টাকার হিসাবের পাশাপাশি এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এসব হিসাবে মোট আমানত ছিল ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে এসব বড় অঙ্কের হিসাবে জমা অর্থ বেড়েছে ২২ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৫ সালে দেশে কোটি টাকার হিসাব ছিল ৪৭টি। ১৯৮০ সালে তা বেড়ে হয় ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি।


পরবর্তী সময়ে এ প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত গতি পায়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাব দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি।


বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটি টাকার হিসাব মানে আলাদা আলাদা কোটিপতি ব্যক্তি নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও করপোরেট হিসাবও এর অন্তর্ভুক্ত থাকে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে। ফলে হিসাবের সংখ্যা এবং প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা এক নয়।