দর সংশোধনের এক দিন পরই ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার

দর সংশোধনের এক দিন পরই ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর এক দিনের স্বাভাবিক দর সংশোধন শেষে আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। বুধবার (১৭ জুন) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। একই সঙ্গে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বেড়েছে।

 

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা ফিরেছে। মাঝেমধ্যে সূচকে সামান্য ওঠানামা দেখা গেলেও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা নেই। বরং পতনের চেয়ে উত্থানের প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ছে এবং একসময় বাজার থেকে দূরে সরে যাওয়া অনেক বিনিয়োগকারীও আবার লেনদেনে ফিরছেন।

 

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬২১ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৭ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৩৬ দশমিক ৪১ পয়েন্টে উঠেছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৩ দশমিক ৪ পয়েন্টে।

 

ডিএসইতে এদিন ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির দর।

 

লেনদেনেও দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। বুধবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ২১১ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

 

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ৩৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৩০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার চেয়ে বেশি। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১১টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির দর।

 

তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়লেও সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২৪৯ দশমিক ৮১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ১২৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট কমেছিল।

 

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং লেনদেনের গতি শক্তিশালী হতে পারে।