আবারও বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই পাকিস্তান

আবারও বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনে ৭৮ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা।


এটি ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়। এর আগে পাকিস্তানের মাটিতেও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ।


ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৭৮ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৩২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তোলে টাইগাররা। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।


চতুর্থ দিনের শেষভাগে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করে। দিনের শুরু থেকেই মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান মারকুটে ব্যাটিং শুরু করেন। ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান তুলে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন তারা। এতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ শিবির।


অবশেষে ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ২৮ রান করা সাজিদ খান স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৯৪ রানে আউট করেন তিনি। গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলের লড়াকু ইনিংসে ১০টি চার হাঁকান তিনি।


রিজওয়ানের বিদায়ের পর দ্রুতই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। শেষ ব্যাটার হিসেবে খুররম শেহজাদকে আউট করে ইনিংসে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৫৮ রানে।


এর আগে চতুর্থ দিনে দলীয় ২৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। নাহিদ রানার বলে গালিতে ক্যাচ দেন ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। ৬ রান করেন তিনি। দারুণ ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।


অন্য ওপেনার আজান আওয়াইসও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪৯ বলে ২১ রান করে মিরাজের বলে লেগ বিফোরের শিকার হন তিনি। ৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।


এরপর বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ ৯২ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে ৪৭ রান করা বাবর আজমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন বাবর। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংস সাজান তিনি।


নাহিদ রানা এরপর ফেরান ৬ রান করা সৌদ শাকিলকে। ওয়াইডিশ ইয়র্কারে ব্যাট ছুঁইয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি শাকিল।
এরপর পাকিস্তানের বড় ভরসা হয়ে ওঠা অধিনায়ক শান মাসুদকেও ফেরান তাইজুল। ৭১ রান করা শান শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দেন। তখন ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।


তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ২২৪ বলে ১৩৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান। কিন্তু শেষ বিকেলে সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৭১ রান করা সালমান আগাকে বোল্ড করেন তিনি।


পরের ব্যাটার হাসান আলিকে শূন্য রানে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ ক্যাচে ফেরান তাইজুল। এরপর শেষদিকে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তান।


বল হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার ছিলেন তাইজুল ইসলাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন তিনি। এছাড়া নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।


ঐতিহাসিক এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করলো বাংলাদেশ।