বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ৮ দফা প্রস্তাব ডিবিএর
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বৈঠকে আর্থিক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে আট দফা নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডিবিএর পক্ষ থেকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বাজারভিত্তিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনটির মতে, করদাতার অর্থ ব্যবহার করে বারবার ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। তাই বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ, একীভূতকরণ ও বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
ডিবিএ আরও মনে করে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমবে।
সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ বিনিয়োগকারী, ব্রোকার ও নন-প্রাইমারি ডিলার (নন-পিডি) ব্যাংকের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নন-কম্পিটিটিভ বিডের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দেয় ডিবিএ। সংগঠনটির মতে, এর ফলে বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
আয়কর আইন ও মূলধন সংরক্ষণ নীতির মধ্যে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ডিবিএর মতে, রিটেইনড আর্নিংস ও স্টক লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন শক্তিশালীকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
এ ছাড়া বন্ড খেলাপিদের তথ্য ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় ডিবিএ। সংগঠনটির মতে, এতে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং খেলাপি সংস্কৃতি কমে আসবে।
শেয়ারবাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। ডিবিএর মতে, এতে লেনদেনজনিত ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীরা দ্রুত অর্থ পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ পাবেন এবং দেশের বাজার আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বৈঠকে দেশীয় সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম (বিইউপিআই) চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। ডিবিএ মনে করে, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম চালু হলে আন্তর্জাতিক গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে।
এ ছাড়া ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে ডিবিএ জানায়, এর ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ও তারল্য বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডিবিএর প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম দেশের আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ইতিবাচক নেতৃত্ব এবং গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, সংস্কার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে ডিবিএ এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এই বিভাগের আরও খবর
পাহাড় সমান ঋণে অস্তিত্ব সংকটে বিডি থাই ফুড, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত বিনিয়োগকারী-কর্মী
বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নমুখী নীতি গ্রহণে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ডিএসই’র
পুঁজিবাজার মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা
টি+শূন্যে যাচ্ছে শেয়ার লেনদেন, আইপিও প্রক্রিয়া হবে অনলাইনভিত্তিক
করপোরেট করহার অপরিবর্তিত, শর্তসাপেক্ষে ছাড় পাচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি