২০২৬-২৭ বাজেট

করপোরেট করহার অপরিবর্তিত, শর্তসাপেক্ষে ছাড় পাচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি

করপোরেট করহার অপরিবর্তিত, শর্তসাপেক্ষে ছাড় পাচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়ী মহলের করপোরেট করহার কমানোর দাবি সত্ত্বেও আগামী করবর্ষে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কিছু তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহারে আড়াই শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে অর্থবিলে ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত বিদ্যমান করহার বহাল রাখার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর হয়নি এমন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সব ধরনের আয় ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ করে, তাহলে তারা বিদ্যমান সাড়ে ২৭ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ হারে কর দেওয়ার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ এসব কোম্পানির জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বাকি সব ক্ষেত্রে বিদ্যমান করপোরেট করহার অপরিবর্তিত থাকবে।


বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, করপোরেট কর পরিপালন ব্যবস্থা আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের সুযোগ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো এবং ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে করদাতাদের করযোগ্য আয় ও করদায় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অডিটের জন্য কর মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য মধ্যমেয়াদে একটি নির্দিষ্ট করহারের নিশ্চয়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই আগামী করবর্ষে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করে ধীরে ধীরে করহার কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।


বর্তমানে শর্ত পূরণকারী তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২০ শতাংশ এবং সাধারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য করহার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। পাবলিক ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪০ শতাংশ করহার বহাল রাখা হয়েছে।


এ ছাড়া সমবায় সমিতির জন্য ২০ শতাংশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ডেন্টাল ও প্রকৌশল কলেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ শতাংশ করহার নির্ধারিত রয়েছে।

 তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির জন্য ৪৫ শতাংশ করের পাশাপাশি ২ দশমিক ৫ শতাংশ সারচার্জ কার্যকর থাকবে। মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির ক্ষেত্রেও বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।