রির্জাভ চুরি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেল সিআইডি

রির্জাভ চুরি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেল সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় এক দশক পর খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খসড়া চার্জশিটে ৩৬ জন ব্যক্তি ও ১৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬টি, বাংলাদেশের ১০টি, শ্রীলঙ্কার ৮টি, ভারতের ৪টি, চীনের ৩টি, উত্তর কোরিয়ার ২টি এবং জাপানের ১টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।


বর্তমানে খসড়া অভিযোগপত্রটি যাচাই-বাছাই করছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। সেখান থেকে আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।


প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সুইফট (SWIFT) পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা অর্থ সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে এবং ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ একটি বানান ভুলের কারণে আটকে গেলেও ফিলিপাইনে পাঠানো অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়।


ঘটনার ৩৯ দিন পর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে সিআইডি।