সপ্তাহের শেষ দিনেও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সূচক, লেনদেনে দেখা গেল মিশ্র প্রবণতা

সপ্তাহের শেষ দিনেও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সূচক, লেনদেনে দেখা গেল মিশ্র প্রবণতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক কার্যদিবসের দর সংশোধনের পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব প্রধান সূচকেই উত্থান দেখা গেছে। তবে সূচকের এই ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য কমেছে এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরেও মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।


বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সূচক, লেনদেন এবং বাজার মূলধনের ধারাবাহিক উন্নতির কারণে নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক উত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই বাজারে কিছুটা দর সংশোধন দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি সাময়িক বলে মনে করছেন তারা।


তাদের মতে, সূচক সাময়িকভাবে কমলেও পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে তা আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অতীতের মতো উদ্বেগ বা আতঙ্ক নেই, বরং আস্থা ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে মৌলভিত্তি শক্ত এমন অনেক শেয়ার এখনো তুলনামূলক আকর্ষণীয় অবস্থায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে বাজার বর্তমানে স্বাভাবিক ও গতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১৪ দশমিক ০৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫০ দশমিক ৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ৩০ দশমিক ০৭ পয়েন্ট, যার অবস্থান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪৩ দশমিক ১২ পয়েন্টে।


এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭৬টির শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে, ১৮৫টির কমেছে এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারে এক ধরনের মিশ্র চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।


লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে ডিএসইতে দিনভর প্রায় ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেন ছিল প্রায় ১ হাজার ২১১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।


অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দিনটিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইতে মোট ৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৩৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।


সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে, ১০৪টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।


এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ২২ পয়েন্ট কমেছিল।