ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো

ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ ১ লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি, দৈনন্দিন ব্যয় এবং বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই সরকারকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছে।


বাজেটে পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু মার্চ শেষে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া হয় ৭৮ হাজার ৪৯ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে কিছু ঋণ পরিশোধের পর তা কমে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।


মার্চের শেষ দিকে সরকারের ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তাও নিতে হয়। ওয়েজ অ্যান্ড মিনস অ্যাকাউন্ট ও ওভারড্রাফট সুবিধার নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে টাকা ছাপিয়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতে হয়। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওই অর্থ ফেরত দেওয়ায় বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ঋণ বাড়তে থাকলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে।


রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতিও এই ঋণনির্ভরতা বাড়িয়েছে। প্রথম ৯ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।


সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে পুরো অর্থবছরে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এর বড় অংশ শেষ তিন মাসে সংগ্রহের চাপ রয়েছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


তবে এপ্রিল মাসে সরকার কিছু ঋণ পরিশোধ করায় সামগ্রিক চাপ কিছুটা কমে এসেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পুরো ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারের ঋণ নেমে এসেছে ৯৩ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের উৎস তৈরি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার এবং বাজেট ঘাটতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।