বিক্রির চাপে সূচক হারালো ৩৫ পয়েন্ট, কমেছে লেনদেনও

বিক্রির চাপে সূচক হারালো ৩৫ পয়েন্ট, কমেছে লেনদেনও

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা তিন কার্যদিবসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশের শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে সংশোধন। দিনশেষে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর সংশোধনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। এর আগে টানা তিন কার্যদিবসের উত্থানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক প্রায় ১২৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। ওই ধারাবাহিক উত্থানের পর এদিন বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়।


লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিএসইএস সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।


বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের কয়েক দিনের টানা উত্থানে বেশিরভাগ সিকিউরিটিজের দাম বেড়ে যায়। সেই লাভ তুলে নিতে দিনশেষে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার ও ইউনিট বিক্রি বাড়ান। এতে বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয় এবং সার্বিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।


বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর পর থেকেই ডিএসইতে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। কখনো দাম বাড়ার তালিকা বড় হচ্ছিল, আবার কখনো কমার তালিকা বড় হচ্ছিল। তবে দিনশেষে পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে বিক্রির দিকেই ঝুঁকে পড়ে। এদিন দাম কমার তালিকা বাড়ার তালিকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বড় ছিল।


ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১০৯টির দর বেড়েছে, ২৪০টির দর কমেছে এবং ৪৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।


লেনদেনেও দেখা দিয়েছে ভাটা। মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকার। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি ১ লাখ টাকা।


অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন সিএসইতে মোট ৩০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৪২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার তুলনায় কম। সিএসইতে মোট ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টির দর বেড়েছে, ১২৩টির কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।


দিনশেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে নেমে আসে।