মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬২২ জনের

13 Jun 2026, 12:51 PM
মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬২২ জনের

 শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে গত মে মাসে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৩১ জন, আহত হয়েছেন আরও ২১৯ জন। শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল-সম্পর্কিত দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত এবং ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের অংশ ছিল ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি ছিল ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ, বাস ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ধীরগতির যানবাহন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।


দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। এছাড়া ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়, ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, ০ দশমিক ৩২ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে।


সড়কের ধরন অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ৫ দশমিক ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মহানগর এলাকায় এবং ০ দশমিক ৮১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে রেলক্রসিংয়ে।


বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, সড়কের অবকাঠামোগত ত্রুটি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।


সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়ন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ এবং কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।