নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারিক প্যানেল। এখন ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন হাসানুল হক ইনু। তাদের দাবি, ওই প্ররোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, যা সহিংসতা ও প্রাণহানির দিকে গড়ায়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে তার ওপর ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বর্তায় বলেও রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানায়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম আদালতে এসব যুক্তি উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইনুর খালাস চেয়েছে। তাদের দাবি, টেলিফোন কথোপকথন বা দাখিল করা নথিতে আন্দোলন দমনে গুলি বা সহিংসতার কোনো নির্দেশ বা উসকানির প্রমাণ নেই। রাজনৈতিক বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
আদালতে উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার হন। পরে কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
এই বিভাগের আরও খবর
হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম-নির্যাতন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ মজিবুরের মামলার আবেদন খারিজ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার
পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির কথা বলা ও প্রচার না করার নির্দেশ আদালতের
রামিসা হত্যা: আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী আদালতে