গণহত্যা চলছেই, গাজায় এক রাতেই নিঃশেষ ৮১ প্রাণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গণহত্যা যেন গাজার নিয়তি হয়ে উঠেছে। একের পর এক হামলা, ধ্বংসস্তূপে পরিণত বসতি, আর নিথর হয়ে যাওয়া শিশু–নারী–পুরুষের দেহ—সব মিলিয়ে মৃত্যু আর কান্নাই এখন গাজার প্রতিদিনের গল্প। সর্বশেষ ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় মাত্র এক রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮১ জন ফিলিস্তিনি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তর গাজায় মধ্যরাতের পর চালানো ভয়াবহ হামলায় মারা গেছেন অন্তত ৫১ জন। এর আগে দক্ষিণ গাজার ইউরোপীয় ও নাসের হাসপাতালে চালানো বোমা হামলায় নিহত হন আরও ৩০ জন। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী এবং চিকিৎসা নিতে আসা একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সামরিক আগ্রাসনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল। কিছুদিনের নিস্তব্ধতার পর মার্চ থেকে ফের শুরু হয় ভয়াবহ বিমান হামলা। শুধু গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতেই নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮০ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫২ হাজার ৯০৮ জন ফিলিস্তিনি। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ ছাড়িয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের ফলে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা—প্রতিটি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠী বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এছাড়াও গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলছে মামলা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে।
গাজা এখন আর শুধুমাত্র একটি ভূখণ্ড নয়—এটি রক্তাক্ত ইতিহাসের নাম, যেখানে প্রতিটি রাত ডেকে আনে নতুন শোক, প্রতিটি সকাল প্রকাশ করে আরও কিছু নিঃশেষ প্রাণের গল্প।
এই বিভাগের আরও খবর
হরমুজ বন্ধে সার সরবরাহ স্থবির, বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে ভয়াবহ ঝুঁকি
৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান
বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম
যুদ্ধের অবসানে ৩ স্তরের নতুন প্রস্তাব দিল ইরান
২১ মাসে ৩ বার প্রাণে বাঁচলেন ট্রাম্প