অঘোষিত ফাইনালে শান্তর সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি বাংলাদেশের

অঘোষিত ফাইনালে শান্তর সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক : অঘোষিত ফাইনালে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা দাঁড়িয়ে গেল ব্যাট আর বলের সরাসরি পরীক্ষায়। আর সেই লড়াইয়ে প্রথম ইনিংসে টিকে থাকার গল্প লিখল বাংলাদেশ, নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে।

 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। টস ভাগ্য এবারও সঙ্গ দেয়নি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচেই টস হারল টাইগাররা।

 

শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের একেবারে শুরুতেই কাঁপতে থাকে টপ অর্ডার। উইল ও’ররকির টানা দুই ওভারে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম—দুজনেই শূন্য রানে। এরপর সেট হতে থাকা সৌম্য সরকারও থামতে পারেননি, ১৮ রান করে ও’ররকির তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন। মাত্র ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

 

এই জায়গা থেকেই ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। ধৈর্য আর পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৭৮ বলে ১৬০ রানের জুটি। শুরুতে ঝুঁকি কমিয়ে পরে ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়ান দুজনই।

 

লিটন দাস ইনিংসটাকে বড় করার পথে ছিলেন। তবে জেডেন লেনক্সের ঘূর্ণিতে ভুল করে বসেন। স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৯১ বলে ৭৬ রান করে, যেখানে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কা।

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের কাজটা ঠিকই করে যান শান্ত। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে মারেন ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। শেষদিকে আউট হলেও তার ইনিংসই বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক স্কোরে নিয়ে যায়।

 

নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুটা যেমন ছিল, সেই তুলনায় এই পুঁজি নিঃসন্দেহে লড়াই করার মতো।

 

এখন সমীকরণ পরিষ্কার—সিরিজ জিততে হলে নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ২৬৬ রান। বল হাতে এই লক্ষ্য রক্ষা করতেই নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটা এখন পুরোপুরি খোলা, তবে শুরুটা করেছে শান্তর ব্যাটই।