মিউচুয়াল ফান্ডে কাস্টডিয়ান হতে চায় সিডিবিএল

মিউচুয়াল ফান্ডে কাস্টডিয়ান হতে চায় সিডিবিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারের কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আয়ের উৎস তৈরি এবং কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর কাছে কাস্টডিয়ান লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা দেয়। তবে প্রয়োজনীয় কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। বর্তমানে ঘাটতিগুলো পূরণ করে পুনরায় আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিডিবিএল।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে সিডিবিএলকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে উৎসাহ দেয় বিএসইসি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী, কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব এখন শুধু ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। ইউনিটহোল্ডারদের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যাংক লেনদেন তদারকির দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। আগে এসব কার্যক্রমের বড় অংশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া সংশোধিত বিধিমালায় কাস্টডিয়ানদের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।


বিএসইসির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সিডিবিএলের আবেদনে বেশ কিছু ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বা নিরীক্ষকের সনদ জমা না দেওয়া, কোম্পানি ও পরিচালকদের পূর্ণাঙ্গ সিআইবি অঙ্গীকারপত্র অনুপস্থিত থাকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ঋণখেলাপি বা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের তথ্যসংবলিত হলফনামা, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও ঋণসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রও দাখিল করা হয়নি।
একই সঙ্গে কাস্টডিয়ান কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, লজিস্টিক সহায়তা, কাস্টডিয়ান টিমের তালিকা এবং ওয়েবসাইট সংক্রান্ত ঘোষণাও জমা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত যোগ্যতার কমপ্লায়েন্স অফিসারের নিয়োগপত্র ও জীবনবৃত্তান্ত এবং রিস্ক বেইজড ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধনের ঘোষণাও অনুপস্থিত রয়েছে।


এ অবস্থায় কমিশন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে পুনরায় আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে।


এদিকে শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব সিডিবিএলের আয়ে প্রভাব ফেলেছে। লেনদেন কমে যাওয়ায় নিষ্পত্তি ফি থেকে আয় কমেছে। পাশাপাশি বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি ১৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করায় এ খাত থেকেও আয় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় কমে প্রায় ৭ কোটিতে নেমেছে, যা আগের বছর ছিল ১৩ কোটির বেশি। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা ১৭ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকায়।


এ বিষয়ে সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করতে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী এবং সে অনুযায়ী আবেদন করা হয়েছে। কমিশন কিছু অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে, যা দ্রুত জমা দেওয়া হবে।


অন্যদিকে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ান লাইসেন্স দিতে কমিশনের আগ্রহ রয়েছে। তবে এর জন্য নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণ করেছে, তবে অন্যান্য কিছু শর্ত এখনো বাকি রয়েছে।